কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপ বাংলার 7 টি জেলাতে করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসছে প্রতিনিধি দল..

করোনা মোকাবিলায় সারাদেশে চলছে লকডাউন। এই লকডাউন আগামী 3 রা মে পর্যন্ত চলবে। সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও পালন হচ্ছে লকডাউন। কিন্তু এখনো কিছু কিছু জেলার মানুষেরা অসচেতন। লকডাউনকে ঠিকঠাক ভাবে মেনে চলছে না সেখানকার মানুষ জনেরা। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চলাফেরা করছে সেখানকার সাধারণ মানুষেরা। একসাথে ভিড় করে বেরিয়ে পড়ছে বাজারে। মাংসের দোকানেও লম্বা লাইন মনে হচ্ছে যেন কোন উৎসব চলছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের বচসাও সৃষ্টি হচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসন থেকে বারবার বারণ করা সত্ত্বেও মুখে মাক্স না পড়েই বেরিয়ে পড়ছেন অনেকেই। আবার কিছু কিছু জায়গায় মাস্ক পড়ে মানুষেরা বাইরে বেরোচ্ছেন কিন্তু মেনে চলছেন না সামাজিক দূরত্ব। আবার অনেকে মনে করছেন যে মাস্ক পড়লেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে। রাজ্য প্রশাসন, কেন্দ্রীয় সরকার, পুলিশের তরফ থেকে বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও সেই সমস্ত নিয়ম পালন করছেন না মানুষেরা। তাই কিছু কিছু অসচেতন মানুষগুলোর জন্য ভুগতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
ইতিমধ্যে কলকাতার বেশ কয়েকটি জায়গাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এমনকি বেশ কয়েকটি এলাকাকে পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে তা সত্বেও হুঁশ ফিরছে না সেখানকার সাধারণ মানুষের। সবমিলিয়ে সরকারের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কথা অনুযায়ী কলকাতা, হাওড়া, উত্তর 24 পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার পরিস্থিতি খুবই ভয়ানক। বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী 35(1),35(2), 35(2এ), 35(2ই) আর 35(2আই) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রের অধিকার প্রয়োগ করা হবে। এবং কেন্দ্রের তরফ থেকে একটি আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে রাজ্যে।

এই দল যাবতীয় জিনিস খতিয়ে দেখবে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে নবান্নে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দুটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে এই দুটি প্রতিনিধি দল সাত জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। মোটামুটি তিন দিনের মধ্যে এই প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গে এসে পৌঁছে যাবে বলে জানানো হয়েছে। এই দুটি প্রতিনিধি দলে কারা কারা থাকছেন সে বিষয়ে জানিয়েছে সরকার –দুটি প্রতিনিধি দলের মধ্যে প্রথম দলটি কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর 24 পরগনায় একটি দল যাবে। প্রথম দলটির নেতৃত্ব দেবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্র। এছাড়াও এই দলে থাকছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার যুগ্ম সচিব রমেশ চন্দ্র গন্ট, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ডেপুটি ডিরেক্টর জিলে সিংহ ভিকাল, পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট এর অধ্যাপক আর পতি আর উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের ডিরেক্টর সীতারাম মিনা। দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলটি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং যাবে। এই দলটির নেতৃত্ব দিবেন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব বিনীত জোশী।

এছাড়া বাকি প্রতিনিধিরা হলেন, পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট অধ্যাপক শিবানী দত্ত, বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার উপদেষ্টা অজয় গাঙওয়ার, উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের ডিরেক্টর ধর্মেশ মাকওয়ানা আর থাকছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি এন.বি.মানি। ইতিমধ্যে বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে যে, সরকার করোনা সংক্রমিত মৃতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে গোপন করছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ পুরো বিষয়টিকে অবহেলা করছে। এই সমস্ত বিষয়গুলিকে প্রতিনিধি দল খতিয়ে দেখবে।রাজ্য গুলিতে কিরকম অনুপাতে করণা টেস্ট করা হচ্ছে সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে প্রতিনিধি দল।

এর পাশাপাশি স্পর্শকাতর 7 জেলাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে টেস্ট কিট রয়েছে কিনা এবং ডাক্তার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা সঠিকভাবে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট পাচ্ছেন কিনা সেই বিষয়টিও লক্ষ্য রাখা হবে। এমনকি ত্রাণ শিবির গুলিতেও শ্রমিকদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এই প্রতিনিধিদল।