খালি পায়ে শাড়িতেই ম্যারাথনজয়ী, স্বামীকে বাঁচাতে দৌড়েই চলেছেন 68 বছরের লতা…

সাল তখন 2013, স্থান মহারাষ্ট্রের বারামতি। তিন কিলোমিটারের ম্যারাথন ট্র্যাকে সমস্ত প্রতিযোগিতা দামি পোশাক এবং স্পোর্টস শু”-তে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দর্শকদের নজর একজনের দিকেই ছিল। হয়তো বাকি প্রতিযোগীদের সাথে তাকে বেমানান লাগছিল ওই ট্র্যাকে, কিন্তু আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিলেন তিনি। তিনি একটি লক্ষ্য পূরণের আশায় দৌড়ে চলেছেন ওই প্রতিযোগিতায় সাথে।

এদিকে যেমন বাকি প্রতিযোগীদের দামি পোশাক এবং স্পোর্টস শু ছিল তেমনি উল্টোদিকে তাঁর পরনে ছিল, পুরনো শাড়ি হাঁটুর উপর মালকোঁচা দিয়ে পরা, খালি পা, রোগা শরীরে আর এমন অবস্থায় তিনি দৌড়ে চলেছেন প্রথম স্থান অধিকার করার জন্য। এনার গতির সামনে নামি দামি পোশাক পরা শহরের বাবুরা পর্যন্ত হার মেনে যায়। ম্যারাথন দৌড়ে প্রথম স্থান অধিকার করে রাতারাতি খবরের শিরোনামে চলে আসেন এই মহিলা। এই মহিলার নাম হল লতা ভগবান কারে। তখন এনার বয়স 61 বছর।

এখন লতার বয়স 68 বছর। তবুও তিনি এখনও হার মানতে শিখেননি। মহারাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় বয়স্কদের দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় সেখানেই দেখা যায় লতাকে। দর্শকরাও লতার দৌড়ানো দেখার জন্য হাজির হয়ে যায় সেখানে। এক প্রকার বলা যেতে পারে লজ্জা-সংকোচকে তিনি জয় করে নিয়েছেন। তাকে জিততে হবে এমন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন তিনি। এই দৌড়ে তার সংসার কে বাঁচিয়ে রাখে। দৌড়ে যে পুরস্কার তিনি অর্জন করেন তাতেই তার স্বামীর চিকিৎসা হবে।

তিনি কোনো সখে নন পেটের দায়ে, সংসার চালানোর জন্য এখনো পর্যন্ত দৌড়ে চলেছেন। লতার এই দৌড়ানোর জার্নি শুরু হয়েছিল 2013 সাল থেকে।”সেই সময় স্বামীর এমআরআই স্ক্যান করার জন্য লাগত 5000 টাকা। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনেছিলাম দৌড়ালে নাকি টাকা উপার্জন করা যায়। তবে এটা কোনোদিন ভাবি নি যে জিততে পারবো,” তাই লতার মুখে আজ যে হাসিটা সেটা গর্বের। আগে কোনদিন দৌড়ে অংশগ্রহণও করেননি তিনি, তাই প্রথমবার ম্যারাথনের নাম দিয়ে খানিকটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন লতা এ কথাও জানান তিনি। তিনি বলেছেন, আমার কোনো নিয়ম কানুন জানা ছিল না।

দৌড়াবার কোন পোশাক ছিল না তার কাছে। বাকি প্রতিযোগীদের সামনে তাকে বেস বেমানান লাগছিল। তবুও তিনি নিজের লজ্জাকে জয় করে দৌড়ে ছিলেন সেদিন কারণ শুধু লজ্জা নয় ওই দৌড় ছিল স্বামীকে বাঁচানোর জন্য। লতা বলেছেন,” এই দৌড় ছিল আমার জীবনের লড়াই। এই দৌড়ে আমি জিতলে আমার স্বামীর প্রাণ বাঁচবে। তাই সেই সময় সবকিছু পিছনে ফেলে লক্ষ্য স্থির করে আমাকে জিততেই হবে। আর তাতেই আমার জয় আসে।”

Related Articles

Close