জল্পনায় 356, তবে আবার হতেও পারে, বললেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী….

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে যেভাবে হিংসা হচ্ছে তাতে 356 ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, ” 356 ধারা জারি করা আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।” এরপরে আর একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেশরীনাথ ত্রিপাঠী বলেন, ” রাজ্যের 356 ধারা প্রয়োগ করা হতেও পারে।

এই ধারা প্রয়োগ করা যখন দাবি উঠবে তখন কেন্দ্র ভেবে দেখবে।” রাজ্যপালের সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিপেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সক্ষম। সন্দেশখালিতে যে রাজনৈতিক হিংসার আগুন জ্বলছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্যপালের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বনির্ধারিত বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন বেলা বারোটার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করতে যান রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার পর পৌনে 1 টা নাগাদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান। এই দুই বৈঠকেই রাজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাজ্যপাল। রাজ্যের হিংসার বাতাবরণ সম্পর্কে অমিত শাহ কে বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক হিংসা ঘটনার পিছনে যে শাসকদলের উস্কানি রয়েছে সেই কথা উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। এদিন বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সেই উত্তরে রাজ্যপাল বলেন, ” হতেও পারে” বলে মন্তব্য করলেও রাজ্যপালের দাবি, ” আমি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারোর সাথেই এই সম্পর্কে আলোচনা করিনি।”

রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজ্যপালের ‘হতেও পারে’ মন্তব্যে পেছনে অনেক মানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অপরদিকে তৃণমূল এর অভিযোগ করছে, রাজ্যপালের দপ্তরকে ফের রাজনৈতিক ভাবে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর হিংসায় মোট 12 জনের প্রাণ গেছে বলে অমিত শাহ কে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু নবান্নে তথ্য অনুযায়ী, লোকসভা ভোটের পর দিনহাটা,নিমতা, সন্দেশখালি, হাওড়া ও আরামবাগে 5 জন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং সন্দেশখালিতে দুজন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট পাঠিয়ে থাকেন রাজ্যপাল। কিন্তু রাজ্যপাল বিজেপির দেওয়া তথ্য কে আগে স্বীকার করছে। রাজ্যের শান্তি ফেরানোর জন্য দরকার পরলে সর্বদল বৈঠকের পক্ষেও যেতে পারেন রাজ্যপাল। তিনি জানিয়েছেন এই বিষয়ে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। খবর সূত্রে জানা যায় এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তিনি কথা বলেছেন। কিন্তু তৃণমূল এর বক্তব্য রাজ্যের পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়ে যায় নিজে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে হবে। এরপরও যদি রাজ্যপাল সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন তাহলে আমরা দলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই বৈঠকে যোগদান করব কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে আবার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জানিয়েছেন, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি খারাপ বলেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হবে এর কোনও মানে নেই। সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য- রাজনীতির চাপানোতর তুঙ্গে। তবে রাজ্যের পরিস্থিতি যত তাড়াতাড়ি ঠিক হয় ততই ভালো।

The India Desk

Indian famous bengali portal, covers the breaking news, trending news, and many more. Email: theindianews.org@gmail.com

Related Articles

Close