এখনো পর্যন্ত বাংলায় করোনায় মৃত্যু 18, এবং মৃত্যুর সময় শরীরে করোনা ছিল আরো 39 জনের : মুখ্যসচিব

গোটা বিশ্ব জুড়ে চলছে মরণ ভাইরাস করোনার তাণ্ডব, আর এই মরণ ভাইরাস করোনার জেরে ভারতে ইতিমধ্যে প্রাণ গিয়েছে 780 জনের, আর পশ্চিমবাংলাতে এই মরণ ভাইরাস করোনার জেরে নাকি প্রাণ দিয়েছিল 18 জনের এমনটাই সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানতে পারা যাচ্ছিল। তবে এই বিষয় নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল 3 ই এপ্রিল যেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোন রোগী মারা গেলে তার মৃত্যু কী প্রকৃতপক্ষে কারোনার কারনে হয়েছে নাকি অন্য কারনে সে বিষয় খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি বিশেষ কমিটিকে।

আর এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। তবে এবার সেই কমিটির তরফ থেকে যে রায় বেরিয়ে এলো তা সকলকে চমকে দেওয়ার মতো গতকাল শুক্রবার দিন বিকেলে নবান্নের প্রেস কনফারেন্সে এই বিষয় নিয়ে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।তিনি জানিয়েছেন এই কমিটি জানিয়েছে রাজ্যে 18 জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত করোনার কারণে আর বাকি আরো 39 জনের মৃত্যু হয়েছে যাদের দেহেও কোভিড পজিটিভটা ইন্সিডেন্টাল ছিল।তবে আরো বলে রাখি এই 18 জনের মধ্যে যে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে সেটি গত 24 ঘন্টার মধ্যে।তবে এই বিষয়ে অনেকেই মনে করছেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে একটি প্রতিনিধিদল কলকাতায় পাঠানোর পরেই তারা রাজ্য সরকারকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছে আর তার জন্যই এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার।এতদিন ধরে কখনো রাজ্যে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জানানো হয়নি নবান্নে তরফ থেকে সবসময় এক্ষেত্রে বলা হচ্ছিল করোনার জেরে এক্টিভ রোগীর সংখ্যা অর্থাৎ এই মুহূর্তে কতজন রোগীর শরীরে রয়েছে করোনার জীবানু তাদের পরিসংখ্যান জানানো হচ্ছিল শুধুমাত্র।

একই ভাবে মৃত্যুকালে শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলেও নবান্নে গঠিত এক্সপার্টরা মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণকে দায়ী করছিল বারবার।আর অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে বারবার এই তথ্য গোপন করার জন্য অভিযোগ উঠানো হয়েছিল রাজ্য সরকার তথা নবান্নের বিরুদ্ধে। তবে এই বিষয়ে এক্সপার্ট কমিটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে কোন ব্যক্তির যদি মৃত্যু ঘটে যাচ্ছিল এবং তার দেহে যদি করোনা সংক্রমণ থাকছিল তাহলেও সেটিকে কিডনির অসুখ, মাল্টিঅর্গান ফেলিওর, লিউকোমিয়া,ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি নাম দিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণকে লোকানো হচ্ছিল।তবে এবার মোট 57 জনের মৃত্যুর ঘটনা কমিটির তরফ থেকে প্রকাশিত করা হল গত শুক্রবার দিন। তবে এই বিষয়ে অনেকেই দ্বিমত প্রকাশ করেছে, কেন্দ্রীয় টিমের প্রশ্ন ঢাকাতে কী রাজ্য সরকারি পরিসংখ্যান সামনে বের করে এনেছে তার উত্তরে জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানান না তা অবশ্য নয়। কেন্দ্রের টিমের কলকাতা আসার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই আমরা অনেকদিন ধরে এক্সপার্ট কমিটির কাছে একটা কম্পাইল্ড রিপোর্ট চাইছিলাম যা আজ ঘটনাচক্রে সেই রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। তবে এখানেই শেষ নয় দিন মুখ্য সচিব আরো জানান বিগত 24 ঘন্টার মধ্যে হাওড়ার আরো করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে 51 জনের দেহে। তাই এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে 393 জন। যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে 103 জন। যদিও এর আগে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত  পরিসংখ্যান নিয়ে প্রথম থেকেই মতবিরোধে তৈরি হয়েছিল তবে সেই বিষয়টিকে অস্বীকার করে এসেছে সরকার বারবার বলেছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তাদের পরিসংখ্যান কে চ্যালেঞ্জ করেছে কেন্দ্র।এর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বারবার বলেছেন করোনা নিয়ে কোনো তথ্য এখনো পর্যন্ত লুকোনো হয়নি। আর সেই একই সুর এবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মিলল মুখ্যসচিবের গলাতেও।সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান রাজ্যের হিসেব খোলা পাতার মতো সেখানে কোন প্রকার কারচুপির কথা নেই।