Categories
নতুন খবর Bangla News

১৫০ টাকায় দিন মজুরি খেটে,আজ WBCS এর A গ্রেড অফিসার…

আজ আপনাদের জানাবো এমন এক ব্যক্তির সম্পর্কে যা জেনে আপনি কিছুটা হলেও গর্ববোধ করবেন। ওই ব্যক্তিত্বের নাম হল শান্তনু সিংহ ঠাকুর। বাঁকুড়ার তেলাবেদ্যা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন শান্তনু,১৫০ টাকায় দিনমজুরি করতেন , অার এখন তিনি WBCS এর A গ্রেডের অফিসার। কি করে এত বড়ো পরিবর্তন হলো তা জীবনে ? একি শুধু ভাগ্যের খেলা ?গ্রামে সান্তনু বাবা মা ও দিদিকে নিয়ে এক কুঁড়েঘরে বাস করত , ছোট থেকেই সে ছিল অনেক পরিশ্রমী। সংসারে দারিদ্রতার ছায়া, তবুও সে কঠিন পরিশ্রম করে মাধ্যমিকে ৭৫.২% পেয়ে সফল হন। শান্তনুর পরিবারের অভাব থাকায় সে ছোটখাটো কাজ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশন পরানো ,এইভাবে তিনি নিজে বাড়িতে পড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৫% নাম্বার নিয়ে পাস করেন।

শান্তনুর বক্তব্য ছিল,”চেয়েছিলাম ইংরেজি, বাংলা, অঙ্ক টিউশন নিতে কিন্তু বাড়ির এই পরিস্থিতির জন্য তা নিতে পারিনি”।তিনি বলেছেন , “কম বেশি পরিশ্রম সবাই করে কিন্তু গাইডেন্স হলো প্রধান । যেটা আমার ছোট থেকেই ভাগ্যে জোটেনি , না হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ফল আরো ভালো হতো। মাত্র ১৫০ টাকা বেতনে অফিসে দৈনন্দিক কাজ করে আমি নিজের পড়াশোনা চালিয়েছি । বাড়ির পরিস্থিতি এমনটাই ছিল , বেশিরভাগ দিন দুবেলা ভাত জুটত না , পড়াশোনা তো দূরের কথা। তবুও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে কলা বিভাগ নিয়ে ভর্তি হই। অনেকে অনেক কথা বলেছিল , কেউ কেউ আবার মুখও বেঁকিয়ে ছিল, তবুও কারো কথায় কান না দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছি “।

সবার জীবনে কেউ না কেউ এমন থাকেন যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই, তেমনি শান্তনু জীবনে তার জামাইবাবু তার কাছে ভগবান রুপি ছিল। সান্তনু কে কেউ সাহায্য না করলেও সব সময় জামাইবাবু তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।ইংলিশে অনার্স পুরো করার পর ,পরবর্তীকালে সান্তনু আরো ভালোভাবে পড়াশোনা করে WBSC এর A গ্রেডের অফিসার হন। অফিসার হওয়ার পর তিনি বলেন,”অনেক কষ্ট করেছি তাই ভগবান আমার দিকে তাকিয়েছেন , এবার গরিব ও দরিদ্রদের জন্য কিছু একটা করতে চাই, তাহলে আমার জীবন সার্থক হয়ে উঠবে”।