রয়্যাল এনফিল্ডকে ই-বাইক বানিয়ে তাক লাগানো ১৫ বছরের কিশোর, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

লকডাউনে মাত্র ১৫ বছরের কিশোর রয়্যাল এনফিল্ড কে পরিণত করল ই-বাইকে। এমনই এক কর্মকাণ্ড করেছে দিল্লির রাজন নামে নবম শ্রেণীর এক কিশোর। রাজনের ছোট থেকেই বাইকের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ। আর এই লকডাউন চলাকালীন সে রয়্যাল এনফিল্ড বাইক কে বানিয়ে ফেলল ই-বাইকে। কিছুদিন আগে একটি সাইকেল কে ব্যাটারি চালিত গাড়িতে পরিণত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে সে সফল হয়নি। তারপরও, সেই ছোট্ট ছেলেটি থেমে থাকেনি।

সে মোটর বাইককে ই-বাইক এ অর্থাৎ ব্যাটারিচালিত গাড়ি তে পরিণত করতে চেয়েছিল। বাড়িতে এই প্রোজেক্টের সাহায্যের জন্য মিথ্যা কথাও বলেছিল, যে এই প্রজেক্টটি স্কুল থেকে দেওয়া হয়েছে। রাজন বলেছে, যে প্রথমে সে একটি সাইকেল কে ব্যাটারি চালিত সাইকেল পরিণত করেছিল কিন্তু তাতে স্পিড নিয়ন্ত্রণ না করায় চারচাকা গাড়ির সঙ্গে এক্সিডেন্ট হওয়ায় সেই প্রজেক্টে অসফল হয়েছিল। এরপর এই ছেলেটি লক্ষ করেছিল যে ব্যাটারি চালিত রিকশার ব্যাটারি গুলি গাড়ির লোড নিতে পারে।

তাই সে সেই ব্যাটারিগুলো কে বাইকের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করে, প্রথমে সে হালকা ধরনের বাইকগুলোর সঙ্গে ব্যাটারি সংযুক্ত করল কিন্তু তা ঠিক ঠাক না হওয়ায় পড়ে সে ভারী বাইকে সঙ্গে ব্যাটারি সংযুক্ত করল এবং তা সফল হল। আর এই ভাবেই তৈরি হয় তার এই ই-বাইক।এই ছেলেটি বলে মাত্র তিন দিনেই সে এই ই-বাইক তৈরি করেছে। কিন্তু এর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড় করতে সময় লেগেছে প্রায় এক মাস।

Advertisements

সে জানায় লকডাউন এর সময় সে বিভিন্ন গাড়ি ও মোটর সাইকেল ঠিক করার গ্যারেজ গুলিতে ঘুরে বেড়াতো, সেখানে বসে সে দেখতো গাড়ি কিভাবে সারানো হয় ও কিভাবে তৈরি হয়। সেখানে বসে সে জানতে থাকে গাড়ির বিভিন্ন পার্টস গুলি সম্পর্কে। রাজন এও জানতো ১৫ বছর হয়ে গেলে গাড়ি গুলো বাতিল কর করতে হয়। তার ফলে সে ই-বাইক বানানোর জন্য সেই পুরনো গাড়ির খোঁজ করতে থাকে। এরপর তার বাবা ছেলের সঙ্গে উদ্যোগী হয়ে পুরনো গাড়ির খোঁজ করতে থাকে কিন্তু না পাওয়ার ফলে সে তার বন্ধুর কাছ থেকে এক পুরনো রয়েল এনফিল্ড বাইক কেনেন।

Advertisements

এরপরে সে পুরনো পুরনো গাড়ির জিনিসপত্রগুলি পাল্টাতে থাকে এবং সেগুলোর বদলে নতুন নতুন জিনিস গুলির আনাতে থাকে। তার জন্য তারা অনলাইন এবং বিভিন্ন দোকান থেকে বাইকের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলি কিনেছিল। এসব জিনিসপত্র জোগাড় করার পরে সে নিজে নিজেই ই-বাইক তৈরি করতে লাগল। তার সঙ্গে তার আরো দুই ভাই ও সাহায্য করত। এই গাড়ি তৈরিতে ওয়েল্ডিং করার সময় তার হাতে কারেন্টও লাগতো।

কিন্তু বাবা কোম্পানিতে কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় পেত না ছেলেকে সাহায্য করার। পরবর্তীতে প্রোজেক্ট কমপ্লিট হলে তার বাবা স্কুলে জমা দিতে গিয়ে জানতে পারে যে এই প্রজেক্ট স্কুলের নয় তার ছেলেরই। কিভাবে এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করল এই ব্যাপারে রাজন বলেছিল, “যে তাদের বাড়ির সামনে একটি মোটর বাইকের দোকান ছিল আর সেখানে এসে জিজ্ঞেস করত বাইকের বিভিন্ন অংশের ব্যাপারে, এভাবেই জিজ্ঞেস করতে করতে সে সঠিক অনুমান করে তার এই বাইকে যন্ত্রপাতিগুলো সে লাগিয়েছিল।

এই ব্যাপারে রাজনের বাবা বলে যে ছেলের জেদের আগে আমাকে হারতেই হয়েছে, প্রথমে এই ব্যাপারে আমার সম্মতি না থাকলেও ছেলে আর তার মায়ের জেদে আমাকে এ ব্যাপারে রাজি হতে হয়েছে এবং তাতে আমি খুশি যে আমার ছেলে অল্প বয়সে এত সুন্দর একটি কাজ করেছে। আরো বলেন যে আমার ছেলে যদি প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো সহায়তা পায় তাহলে সে যেটা করতে চেয়েছে সেটা ব্যাপারে আরো বিশাল কিছু করতে পারবে এবং দেশের জন্য কিছু একটা করতে পারবে।

তার স্কুলের শিক্ষক খুবই খুশি। রাজনের এই কর্মকাণ্ডে তিনি জানান, “দিল্লির মন্ত্রী মানিশ সিষোদিয়া এই পড়ুয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তিনি বলেন আমি দেখতে পাচ্ছি এই ছেলের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল এবং দিল্লি সরকারের এই ধরণের বাইকের প্রজেক্টে কাজ করছে। আমাদের স্কুলের ডিরেক্টর ও সিষোদিয়া দুইজনে এই ব্যাপারে টুইট করেছেন।

দিল্লি সরকার এই ধরনের কৃতি পড়ুয়াদের খোঁজে। বর্তমানে এই ধরনের টেকনিক্যাল স্কুল ও চালু হয়েছে এবং অনেক প্রজেক্ট চলছে।এই ছেলেটিকে প্রজেক্ট তৈরি করার জন্য আর্থিক এবং বুদ্ধিমত্তা দুই ধরনের চিন্তা করতে হয়। যখন সে আর্থিকভাবে সাহায্য পাবে তখন সে আরো অনেক কিছুই করতে পারবে।